ঝিনাইদহ জেলা
খুলনা বিভাগের অন্তর্গত
অন্যতম একটি জেলা ঝিনাইদহ। জেলাটিকে ঘিরে রয়েছে
মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর এবং পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা। জেলাটির আয়তন ১৯৬৪.৭৭ বর্গ কিলোমিটার। জেলাটির আবহাওয়া মোটামোটি ঊষ্ণ এবং জলবায়ু সমভাবাপন্ন। ৬ টি উপজেলা এবং ৬ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ জেলা। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জেলার প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার
ঘনত্ব ৯০১ জন। কপতাক্ষ, নবগঙ্গা, চিত্রা এবং ভৈরবজেলার অন্যতম কয়েকটি নদী।
ইতিহাস ঐতিহ্য
১৮৬২ সালে ঝিনাইদহ জেলাটি
যশোর জেলার একটি মহকুমা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। নবগঙ্গা নদীর পারে বিস্তির্ন অঞ্চল জুড়ে কিছু লোকের বসবাস
ছিল যারা নদী থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করত। ঝিনুক থেকে মুক্তা সংগ্রহের পাশাপাশি ঝিনুকের
খোলস পুড়িয়ে প্রচুর চুন উৎপাদন করা হত। ঝিনুককে আঞ্চলিক ভাষায় ঝিনাই বলা হত আর এ
থেকেই ঝিনাইদহ নামটির উদ্ভব।
১৯১৩ সালে ঝিনাইদহতে
প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বৃটিশ আমল থেকেই ঝিনাইদহ জেলা চিনি শিল্পে ব্যপক
উন্নতি লাভ করে যা আজ অবধি বিদ্যমান। এ অঞ্চলে প্রচুর আখ জন্মে যা চিনিকলের
কাচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
দর্শনীয় স্থানঃ
জেলার দর্শনীয়
স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হল মল্লিকপুরের বটগাছ। প্রায় চারশ বছরের পুরানো এবং এক
একর জমি নিয়ে বিস্তৃত এ বটগাছটি সত্যিই দেখার মত। যদিও মূল গাছটি এখন আর নেই তবুও
স্থানটি অত্যন্ত চমৎকার।
জেলার অন্যান্য
দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে ঢোল সমুদ্র দিঘী, সিরাজ সাইয়ের মাজার, দন্তনগর কৃষি
খামার প্রভৃতি।
অন্যান্য তথ্যঃ
জেলাটির এক প্রান্তে
বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চ শিক্ষাকেন্দ্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকটি কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে হলে আবাসিক হলগুলো সবই ঝিনাইদহ
জেলার শৈলকুপা থানার অন্তর্গত।
বেশ কয়েকজন গুনী
ব্যক্তির পূণ্যভূমি ঝিনাইদহ জেলা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদীস এন্ড ইসলামিক
স্টাডিজ বিভাগের প্রায়াত প্রফেসব ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর একজন
বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত আস সুন্নাহ ট্রাস্ট আজ অবধি
ইসলামী জ্ঞান বিতরনের অন্যতম একটি মাধ্যম হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। আস সুন্নাহ
ট্রাস্টটি ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালের ঠিক পাশেই অবস্থিত। এছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর
রহমানের বাড়িও ঝিনাইদহ জেলায়।
যাতায়াত ব্যবস্থাঃ
ঢাকা থেকে সড়ক ও
রেলপথে ঝিনাইদহ জেলায় যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বেশিরভাগ বাসই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া হয়ে
ফরিদপুর এবং মাগুরা জেলার উপর দিয়ে ঝিনাইদহ জেলায় প্রবেশ করে। ট্রেনে যেতে চাইলে
চুয়াডাঙ্গা নেমে বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় যাওয়া যায়। আর আকাশপথে যেতে চাইলে
যশোর এয়ারপোর্টে নেমে ওখান থেকে আসতে হবে।

0 Comments