নড়াইল জেলা
খুলনা বিভাগের অন্তর্গত
নড়াইল একটি ছোট্ট জেলা। জেলাটির আয়তন ৯৯০
বর্গ কিলোমিটার। জেলাটিকে ঘিরে রয়েছে
মাগুরা, যশোর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বাগেরহাট ও খুলনা জেলা। মোটামোটি উষ্ণ আবহাওয়ার জেলাটির বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান
১৪৭ সেন্টিমিটার। বাংলাদেশ ক্রিকেট
টিমের সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সহ অতীত ও বর্তমানের অনেক গুনী ব্যক্তিদের পদভারে
মুখরিত এ ছোট্ট জেলাটি।
ইতিহাস ঐতিহ্য
১৯৮৪ সালে জেলা
হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার আগে নড়াইল ছিল যশোর জেলার একটি মহকুমা। ভূতাত্মিকদের মতে
প্রায় দশ লক্ষ বছর আগে গঙ্গা নদীর পলিমাটি দ্বারা যে ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছিল তার কিছু
অংশই বর্তমান নড়াইল জেলা। হেলার বিভিন্ন অংশ খনন করার সময় বাঘ, হরিণ সহ নানারকম
জীবজন্তুর ফসিল দেখে ধারনা করা হয়, অতীতে হয়ত সুন্দরবন এ জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত
ছিল। নড়াইল জেলা বহু পূর্ব থেকেই যাত্রাগানের জন্য বিখ্যাত ছিল। আঠার শতকের
মাঝামাঝি এ যাত্রাগান ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে যা আজ অবধি বিদ্যমান।
দর্শনীয় স্থান
নড়াইলের দর্শনীয় স্থানের
তালিকায় সর্বপ্রথম যে নামটি আসে তা হল নিরিবিলি পিকনিক কর্নার। চমৎকার এ পিকনিক
স্পটটি সারাবছরই পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে। নিরিবিলি পিকনিক কর্নার নড়াইল
জেলার লোহাগড়া উপজেলায় অবস্থিত। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য এখানে বেশ কয়েকটি রাইড
এবং লেক
আছে। লেকে নৌকা নিয়ে ঘোরাফেরা ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়াও
সুলতান কমপ্লেক্স, বাধাঘাট, কালিয়া উপজেলায় অবস্থিত অরুনিমা কান্ট্রিসাইড এন্ড গলফ রিসোট, মহাম্মদপুরের
বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মাদ শেখের বসতবাড়িও দর্শনার্থীদের পছন্দের জায়গা। নড়াইলের খেজুরের রস এবং
খেজুর গুড় অনেক বিখ্যাত। এছাড়াও পোড়াসন্দেশ
নামক এক প্রকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নড়াইলে তৈরি হয় যা অত্যন্ত সুস্বাদু।
যাতায়াত ব্যবস্থা
দক্ষিনবঙ্গের মানুষের
স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মান শেষ হলে নড়াইলের সাথে ঢাকার যোগাযোগের বৈপ্লবিক পরিবর্তন
হবে। আপাতত ঢাকার সাথে
নড়াইলের যোগাযোগের দুটি পথ রয়েছে। ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ
হয়ে শিমুলিয়া-কাঠালবারি রুটে লঞ্চ, ফেরি
বা স্পিড বোটে নদী পার হয়ে ভাঙ্গা বিশ্বরোড হয়ে যেতে হয়। অথবা মানিকগঞ্জ হয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া হয়ে ফরিদপুরের
উপর দিয়ে ভাঙ্গা বিশ্বরোড হয়ে যাওয়া যায়। ননস্টপ বাসগুলো সাধারনত ফেরিতে পার হয়ে যায়।
নড়াইলের সবচেয়ে আকর্ষনীয়
জিনিসটা হল এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সবখানেই একটা গ্রামীন পরিবেশের ছাপ রয়েছে। হাইওয়ে রাস্তার পাশের সুবিশাল গাছগুলো দেখলে যেন দর্শনার্থীরা
হারিয়ে যায় কোন এক অজানা জগতে।

0 Comments