বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত
ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা রাজবাড়ী। রাজবাড়ী জেলার আয়তন ১১১৮ বর্গ কিলোমিটার
এবং ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এ জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে
৯১০ জন। রাজবাড়ী জেলার উত্তরে রয়েছে পদ্মা নদী। পশ্চিম থেকে পূর্বে পদ্মা ও যমুনার
সংযোগস্থল, পদ্মার অপর পারে পাবনা ও মানিকগঞ্জ জেলা দক্ষিণে পদ্মার শাখানদী গড়াই
যার অপর পারে মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলা। পূর্বে ফরিদপুর এবং পশ্চিমে কুষ্টিয়া জেলা। ৫
টি উপজেলা নিয়ে রাজবাড়ী জেলা গঠিত। এগুলো হল রাজবাড়ী সদর উপজেলা, পাংশা উপজেলা,
গোয়ালন্দ উপজেলা, বালিয়াকান্দি উপজেলা এবং কালুখালী উপজেলা। রাজবাড়ী জেলার আবহাওয়া
নাতিশীতোষ্ণ এবং জলবায়ূ সমভাবাপন্ন।
ইতিহাস ঐতিহ্য
রাজবাড়ী জেলার নামকরন যে কোন রাজার
বাড়ির নামানুসারে হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কোন রাজার বাড়ি রাজবাড়ী নামের
উৎপত্তি ঘটিয়েছে সে ব্যপারে তেমন কিছু জানা যায় না। রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা
এককালে বাংলার প্রবেশদ্বার নামে পরিচিত ছিল। কালক্রমে ঐতিহাসিক গোয়ালন্দ উপজেলাই রাজবাড়ী জেলার অন্তর্ভুক্ত
হয়ে যায়।
প্রাচীনকাল থেকেই রাজবাড়ী অঞ্চলের
মানুষ ছিল বেশ সংগ্রামী। ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি আন্দোলনেই এ অঞ্চলের মানুষের
স্বতঃস্পুত অংশগ্রহন লক্ষ্য করা যায়। ফকির-সন্নাসী আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন,
খেলাফাত আন্দোলন, ঊওনসত্তরের গণঅভ্যুথ্যান, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন এবং একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলের মানুষের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহন।
জেলা হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে
রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলা ভিবিন্ন জেলার অধীনে ছিল। গোয়ালন্দ উপজেলা ছিল অনেক
বেশি বিখ্যাত। এটি ফরিদপুর জেলার একটি মহকুমা ছিল। মূলত দৌলতদিয়া ঘাট এ উপজেলায়
অবস্থিত হওয়ার কারনে সারা উপমহাদেশ জুড়ে এ উপজেলাটি বেশি বিখ্যাত ছিল। ১৯৮৪ সালের
১ মার্চ রাজবাড়ীকে থানা থেকে জেলায় উত্তীত করা হয়।
শিল্পক্ষেত্রে রাজবাড়ী জেলা কখনও
উন্নত ছিল না। তবে কৃষিক্ষেত্রে অনেক বেশি উন্নত হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে রাজবাড়ীর
অবদান অসামান্য। এ জেলায় প্রচুর ধান, পাট এবং আখ উৎপন্ন হয়।
দর্শনীয় স্থান
রাজবাড়ী জেলায় আগত দর্শনার্থীদের
পছন্দের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে বাংলা সাহিত্যের নামকরা ঔপনাসিক মীর মাশরাফ
হোসেনের স্মৃতিকেন্দ্র। সবুজ-শ্যামল ছায়াঢাকা এ বিনোদনকেন্দ্রটি সত্যিই অসাধারন।
এছাড়াও রয়েছে কল্যাণ দিঘি এবং জোড় বাংলা মন্দির। জোড় বাংলা মন্দিরটি একটি
প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন হিসাবেও সুপরিচিত।
যাতায়াত
ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ এসে পদ্মা নদী
পারি দিলেই রাজবাড়ী উপজেলা। রাজবাড়ী জেলার সাথে ঢাকার কোন রেল যোগাযোগ নেই। তবে
দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজবাড়ী জেলার রেল যোগাযোগ রয়েছে।

0 Comments