কুড়িগ্রাম জেলা
বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের
একটি প্রশাসনিক অঞ্চল কুড়িগ্রাম জেলা। এটি রংপুর বিভাগের
অন্তর্গত। জেলার দুইদিকে ভারতীয়
সীমান্ত। জেলার উত্তরে ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলা। দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা, এবং
পশ্চিমে লালমনিরহাট ও রংপুর জেলা। কুড়িগ্রাম জেলার
আয়তন প্রায় ২২৪৫ বর্গ কিলোমিটার এবং ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জেলাটির প্রতি বর্গ
কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৯২০ জন। নয়টি উপজেলা নিয়ে
কুড়িগ্রাম জেলা গঠিত।এগুলো হল কুড়িগ্রাম সদর, রৌমারি, রাজারহাট, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, চিলমারী, চর
রাজিবপুর এবং উলিপুর উপজেলা। কুড়িগ্রাম জেলার
আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুস্ক।
ইতিহাস ঐতিহ্য
কুড়িগ্রাম
বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন নগরী। ঠিক কখন এ জনপদটি গড়ে উঠেছে তার সঠিক ইতিহাস
জানা যায় না। তবে এ অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্লেষন করলে বুঝ যায় যে আর্যদের
আগমনের বহূ পূর্ব থেকেই এ অঞ্চলে অনার্যরা বসবাস করত। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর
সংমিশ্রনে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকতায় যে সংকর মানবগোষ্ঠীর বসবাস শুরু হয়েছিল তারাই
মূলত এ অঞ্চলের আদিম অধিবাসী। ১৮৭৫ সালে আটটি থানা নিয়ে কুড়িগ্রাম মহকুমা গঠিত হয়
এবং ১৯৮৪ সালে এটিকে জেলায় উন্নীত করা হয়। ব্রহ্মপুত্র নদী অববাহিকতায় এ সমতল
ভূমিটি প্রাগৈতিহাসিক যুগেই গঠিত বলে ধারনা করা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলার
নামকরন নিয়ে বেশ কিছু মতামত প্রচলিত আছে। কিন্তু এ বিষয়ে ঐতিহাসিকরা কোন রেফারেন্স
সংগ্রহ করতে পারেন নি। সবগুলো মতামতই মোটামোটিভাবে লোকমুখে প্রচলিত। তবে এগুলোর
মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য মতামতটি হল এক সময় মহারাজা বিশ্ব সিঙ্ঘ বিশটি জেলে
পরিবারকে উচ্চ শ্রেণির হিন্দুর মর্যাদা দিয়ে এ অঞ্চলে প্রেরন করেন। আদিম অনার্য
ভাষায় বিশকে কুড়ি বলা হত। ধারনা করা হয় ঐ কুড়িটি জেলে পরিবার এ অঞ্চলের অধিবাসীদের
মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে থাকে এবং ধীরে ধীরে এ অঞ্চলের নামকরন করা হয়
কুড়িগ্রাম।
দর্শনীয় স্থান
কুড়িগ্রাম জেলায় বেশ
কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় অবস্থিত
বঙ্গ সোনাহাট ব্রিজ, উলিপুর উপজেলায় অবস্থিত চুপমারী পুকুর ও উলিপুর মুন্সীবাড়ি,
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক, ধারলা
ব্রিজ, চান্দামারী মসজিদ এবং ভেতরবন্দ জমিদার বাড়ি।
যাতায়াত
ঢাকার আসাদগেট,
মহাখালী, গাবতলী এবং কল্যানপুর থেকে কুড়িগ্রামের এসি এবং নন এসি বাস পাওয়া যায়।
তাছাড়া সৈয়দপুর পর্যন্ত বিমানে গিয়েও বাসে করে কুড়িগ্রাম যাওয়া যায়।

0 Comments